২০২৫ সালের মার্চ মাসে হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগদান করেন, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তৃণমূলে যোগ দিয়েই তিনি বড় দায়িত্ব পান এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলে।
তাপসী মণ্ডলের রাজনৈতিক যাত্রা:
তাপসী মণ্ডল তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সিপিএমের সঙ্গে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। পরবর্তীতে, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং হলদিয়া থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে বিজেপিতে থাকার সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, দলের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই কারণে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তৃণমূলে যোগদান ও প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাপসী মণ্ডল বলেন, “মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের কাজ করাটাই আমাদের কাজ। বিভাজনের রাজনীতি আমার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রগতিশীল বাংলাকে রক্ষা করতে এবং হলদিয়ার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
তাপসী মণ্ডলের এই দলবদল বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে, যা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে শুভেন্দুর গড়ে বড় চাল হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া:
তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদানের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি জানি একমাস আগে থেকে… যেদিনকে সুনীল বনসলজি আমাদের ইনচার্জ, গাইডলাইন পাঠিয়েছেন, যে কারা কারা জেলা সভাপতি হতে পারবেন? তাতে পরিষ্কার ছিল এমএলএ-রা… জেলা সভাপতি-তে তাঁদের উৎসাহিত না করতে। পাঁচ জন এমএলএ জেলা সভাপতি ছিল। চারজন মেনে নিয়েছে, উনি মানেননি।”
উপসংহার:
তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তাঁর এই পদক্ষেপ বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং তৃণমূলের জন্য শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। ভবিষ্যতে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।